Sunday, January 5, 2020

খুঁজে ফিরি তোমাকে-Poem


"খুঁজে ফিরি তোমাকে"

Khuje-Firi-Tumake


পূর্ণিমা রাতের চাঁদের সৌন্দর্যে
খুঁজে ফিরি তোমার
মনোহারিণী সেই রুপ ।

প্রভাতে পাখির সুমধুর কলতানে
খুঁজে ফিরি তোমার
সেই মিষ্টি কণ্ঠস্বর ।

গোলাপের পাপরির মাঝে
খুঁজে ফিরি তোমার
সেই রঞ্জিত দুটি ঠোট ।

শীতের সকালে ঘাসের ডগায়
প্রতিটা শিশির কণার ঝলকানিতে
খুঁজে ফিরি তোমার
সেই মুক্তো ঝড়ানো হাঁসি ।

প্রতিটা অফুটন্ত কুসুমকলিতে
খুঁজে ফিরি তোমার
মায়াবী দুটি চোখ ।

বর্ষার বারিধারায় কিংবা
ফাগুনের মৃদুমন্দ বাতাসে
খুঁজে ফিরি তোমার
কোমল ছোঁয়া ।

এখন বুঝি-Poem

"এখন বুঝি"


Ekhon-Buji


নীল জোছনায় তুমি বসেছিলে নিরবে,
সামনে যেতেই দেখি
চোখ দুটি জলেতে ভেজা,
জানতে চেয়েচিলাম, হয়েছে কি?

কিছুই বলনি তুমি
শুধুই চেয়েছিলে চোঁখে চোঁখ রেখে,
সেদিন বুঝেছিলাম তোমার চোঁখ
জোছনার চেয়েও সুন্দর ।

হাতে হাত রেখে বসিয়েছিলে,
কি যেন বলতে চাও--- ।
কিন্তু মুখে কোন কথা স্বরে না ।
একসময় বলেছিলে,
"কেন যে তোমায় বুঝে নিতে পারিনা---?" 

সেদিন বুঝিনি ঠিকই, কিন্তু
এখন বুঝি তোমার মনের অব্যক্ত ভাষাটি,
শুধু তুমি নও
আজ আমিও যে ভালবাসি ।

তাইতো এমন জোছনারাতে
তোমার জন্য অগুচরে
চোখের পাতায় দুফোঁটা অশ্রু
টলমল করে ।,

তুমি আমারি থেকো চিরদিন - Poem

"তুমি আমারি থেকো চিরদিন"


Tumi-Amari-Theko-Chirodin

তোমাকে কল্পনায়
আমার রাণী হিসেবেই ভাবতাম ।
কখনো বাস্তব জীবনে ভাবিনি,
তোমাকে ভেবেই কেটে গেছে
আমার কতরাত ।

ভেবেছিলাম তুমি আমার জীবনে
কখনো বাস্তব হয়ে আসবেনা ।
কিন্তু আজ যখন তুমি
তোমার নরম হাতটি
আমার হাতে রেখেছিলে,
তখন মনে কি যে শিহরণ
জেগেছিল !

আজ যেভাবে আমার হাতে
তোমার হাতটি রেখেছো,
চিরদিন কি এভাবেই
হাতে হাত রেখে চলবে?
নাকি সময়ের ব্যবধানে
দূরে ঠেলে দেবে আমাকে?

আমায় ভালবেসে চিরদিন
আমার জীবন চলার পথে
আলোক বর্তিকা হয়েই
পথ দেখিয়ে দিও,
তুমি আমারি থেকো চিরদিন ।

Thursday, January 2, 2020

এখন শ্বেতশুভ্র ভালোবাসা কামনা করি-Poem


"এখন শ্বেতশুভ্র ভালোবাসা কামনা করি"


Ekhon-ShetShubhra-valobasa-Kamona-kori

সেই তুমি আজও আমাকে ভালবাস
আমিও তোমাকে ভালবাসি ।
কিন্তু তবু আমরা দুজন আজ
দুজনার কতটা দূরে--- ।

সেই তুমি, যে আমার আঁধার জীবনে
ভালবাসার প্রদীপ জ্বেলেছিলে ।
তোমার সেই আলোতেইতো আজও
আমি পথ চলি নির্বিঘ্নে ।

সেই তুমি, আমাকে তোমারি স্বপনে
বিভোর করে রাখতে সারারাত,
এখনো আমি
তোমার স্বপনেই বিভোর থাকি,
তোমার স্বপনেই কেটে যায়
আমার সারারাত ।

সেই তুমি, যে আমারি হাতে হাত রেখে চলতে সারাক্ষণ,
এখনও যখন একা একা পথ চলি
মনে হয় তুমি আমারি হাত ছোঁয়ে আছো ।

সেদিন যখন তুমি আমার গালে
তোমার ঠোটের স্পর্শ একেছিলে
যখন তুমি আমাকে
তোমার বুকে জড়িয়ে নিয়েছিলে,
তখন কি যে শিহরণ জেগেছিল দেহ-মনে ।

তোমার সেই স্পর্শ
আজও আমাকে ছুঁয়ে থাকে সারাক্ষণ ।
তোমার সেই স্পর্শ
আজও আমাকে শিহরিত করে বারবার ।

একসময় আমাদের ভালবাসায়
কাঁমনার গন্ধ ছিল ।
কিন্তু আজ আমাদের শ্বেতশুভ্র ভালোবাসা ।
এতে কাঁমনার কোন চিহ্ণ নেই ।

এখন ঠিক এমনই শ্বেতশুভ্র ভালোবাসা কামনা করি ।
যেখানে যৌনতার কোন ছোঁয়া নেই,
কামনার গন্ধ নেই ।
দু'জন দুই প্রান্তে, দূরে-বহুদূরে
যেখান থেকে শুধু ভালবাসা যায়
শুধুই ভালবাসা যায় ।।

স্মৃতিগুলি মনে নেই-Poem

"স্মৃতিগুলি মনে নেই"

Smritiguli-Mone-Nei

হয়ত মনে নেই,
ভুলে গেছো সেই দিনগুলির কথা,
সেই স্মৃতিগুলির কথা ।

শীতের সকালে শিশির-স্নাত ঘাস মাড়িয়ে
চলেছি কত তুমি-আমি ।
সকালের মিষ্টি রোদে খড়ের স্তুপে বসে
করেছি কত দুষ্টুমি,
শেষ বিকেলে পশ্চিমের আকাশ দেখে দেখে
করেছি কত গল্প,
পুকুর পাড়ে বসে
তোমাকে শোনায়েছি কত কবিতা ।

সেদিন সন্ধ্যায চমকে দেখেছিলাম
তুমি অভিসারে আমার কাছে এসেছিলে,
আমারি হাত টেনে ধরেছিলে,
নিরবে তোমারি বুকে ডেকেছিলে,
বলেছিলে,"চলো, ঐদিকে যাই,
নীল জোছনায় তারার সাথে করি খেলা ।"

সেদিন তোমার বনলতার মত চোখে
চোখ রেখে বুঝেছিলাম
ঐদু'টি চোখ যেন নেশায় ভরা ।

পূর্ণিমা রাতে সেদিনই প্রথম
তোমার হাতে রেখেছি হাত,
------ঠোঁটে ঠোঁট,
এক সময় জড়িয়ে নিয়েছি
আমার বুকের মাঝে ।

শ্রাবণ মেঘের দিনে-Poem


"শ্রাবণ মেঘের দিনে"

Shrabon-Megher-Dine

শ্রাবণের মেঘাচ্ছন্ন এক বিকেলে
আমার হাতে তোলে দিয়েছিলে তুমি
তোমার অবয়বখানি ।

হৃদয় ঘন্টায় সেদিন যেন
হঠাত্‍, ডং করে উঠেছিল ধ্বনি ।
সেই থেকে আজও আমি
শুধু তোমারি কথা ভাবি ।

বার বার দেখে নেই তোমার ছবি ।
এমন শ্রাবণ মেঘের দিনে
শুধু তোমার কথা পড়ে মনে,
তোমার মিষ্টি অবয়বখানি
বার বার ভেসে আসে
আমার দৃষ্টির সম্মূখে ।

মাঝে মাঝে অগুচরে দেখে নিই তোমাকে,
জানি না কোন জড়তায়
তোমার সামনে দাড়াতে পারি না ।

আমার স্মৃতিসৌধ দর্শণে ব্যর্থতা ও এর কারন

= আমার স্মৃতিসৌধ দর্শণে ব্যর্থতা ও এর কারন =


জাতীয় স্মৃতিসৌধ।  ছবি সংগ্রহ: Wikipedia

আজ 16 ই ডিসেম্বর 2012, মহান বিজয় দিবস । বিজয় দিবস উপলক্ষে আমরা 3 জন স্মৃতিসৌদ দর্শণের পরিকল্পনা করি । বিকাল 4 টাই আমরা আশুলিয়ার চারাবাগ থেকে রওয়ানা দেই । বাসে উঠার কোনো চান্স নাই । রাস্তাই জ্যাম, বাসে ভিড় , কোন রকমে বাসে উঠি । বাসে তিল ধারনেরও ঠাই নাই, এমনকি ছাদও খালি নাই । 
যাই হোক 5 ঘটিকায় নবীনগরে পৌছালাম । কিন্তু গেইটের কাছেই যেতে পরিনি । 1 হাত এগোয় তো 3 হাত পিছনে আসতে হয় । আধা ঘন্টা অনেক চেষ্টা করেও ঢুকতে পারলামনা । গেইটে দাড়িয়ে যেটা উপলব্ধি করলাম সেটা হল : 

মানুষের অসহনীয় ভোগান্তি । একেতো 2-3 কিলোমিটার জ্যাম তাছাড়া মানুষের গিজগিজ ভিড় । এতো মানুষের ভিড়ে আমরা ঢুকবো কি, মানুষ তো বের হতেই পারতেছে না । বিজয় দিবস উপলক্ষে গার্মেন্টস কারখানা ছুটি থাকাই গার্মেন্টস শ্রমিকদের ও যেন ঈদের ছুটি । সবাই হুমড়ি খেয়ে এখানে জড়ো হয়েছে । যেসব মানুষ বিষেশ করে মেয়েরা আর কোন দিন এখানে অসবে কিনা সন্দেহ । কারন তারাই বেশি সমস্যাই পরেছে । অনেকেই শারীরিক লান্চনার ও শিকার হয়েছে । মেয়েদের এইসব লান্চনা আর দূর্ভোগ দেখে অনেক খারাপ লেগেছে । 

আমরা সবাই মা(দেশ)কে সম্মান দেখাতে এসে অনেক মা ও বোন কে এভাবে অসম্মান করছি ? 
ছিঃ / ধিক এইসব হীন মনের মানুষদের । 

যাই হোক এসব দেখে আর ঠিক থাকতে পারলাম না । তাই ফিরে আসলাম। আসতে গিয়ে ও আবার সেই সমস্যা, জ্যাম আর ভিড়ের কারনে কোন গাড়িতেই উঠতে পারলাম না । অনেকটা হেটে আসলাম তারপর . . কিছুটা পথ বাসের ছাদে এবং বাকিটা পথ পিক-আপ ভ্যান এ করে । ভ্যানের মাঝেও ভিড় , 1টা ভ্যান এ প্রায় 35 থেকে 40 জন মনুষ । 
নিজেকে কোরবানীর গরু মনে হয়েছে । কোরবানীর গরু যেমন পিক-আপ বা ট্রাকে করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেয়া হয় ঠিক সে রকম। 
এই হলো আমার স্মৃতিসৌদ দর্শণের ব্যর্থ কাহীনি । 

সাভার স্মৃতিসৌদ এলাকায় যে যে সমস্যা চোখে পড়েছে : 
1. রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম, 
2. মানুষের ভিড়, 
3. স্মৃতিসৌদের 1 টি মাত্র প্রবেশ / বাহির ফটক, 
4. আমাদের মানবিক মূল্যবোধের বড়ই অভাব । 

এইসব সমস্যা সমাধানের উপায় : 

1. এখানে 1টা ফ্লাইওভার তৈরি করা, 
2. স্মৃতিসৌদের প্রবেশ/বাহির ফটক ন্যূনতম 4 টা করতে হবে, 
3. আমাদের মানবিক মূল্যবোধের জাগরণ, 
4. ফটকের সামনের হকার ও ভ্রাম্যমাণ দোকান গুলো সরিয়ে ফেলা, এবং 
5. পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা ।